মাদারীপুর প্রতিনিধিঃ রফিকুল ইসলাম মিন্টু
কাজ শেষ হওয়ার কথা দুই বছরেও, কিন্তু তা সমাপ্ত হয়নি এক যুগেও। ফলে মাদারীপুরের ডাসার উপজেলার অডিটোরিয়ামের নির্মাণ কাজ অসমাপ্ত থাকায় তা চালু হচ্ছে না। এরই মধ্যে ভবনে দেখা দিয়েছে বড় বড় ফাটল। এই সুযোগে জামানাতও তুলে নিয়ে গেছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। তবে, নতুন বরাদ্দের মাধ্যমে বাকি কাজ শেষ করে শিগগিরই এটি চালুর আশ^াস উপজেলা প্রশাসনের।
জানা যায়, শিল্প-সংস্কৃতি চাঙ্গা করতে জেলা পরিষদের অধীনে ২০১১-১২ অর্থ বছরে একটি অডিটোরিয়ামের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। যা শেষ হওয়ার কথা ছিল দুই বছরের মাথায়। ৭ কোটি এক লাখ টাকায় চুক্তি হলেও এডিপির বিশেষ বরাদ্দ থেকে পাওয়া যায় ৫ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। ৮৫ শতাংশ কাজের অগ্রগতি দেখিয়ে এই পুরো টাকাই পরিশোধ করা হয় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে।
সার্বিক ইন্টারন্যাশনাল ও মেসার্স রফিক কন্সট্রাকশন নামের দুটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে শুরু করে মাদারীপুরের ডাসারে ‘ডাসার মহিলা কলেজ’এর অডিটোরিয়ামের নির্মাণ কাজ। নাম দেয়া হয় বেগম রোকেয়া অডিটোরিয়াম। বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সামাজিক ও শিক্ষামূলক কার্যক্রম, সভা এবং সেমিনারে এক সঙ্গে ৭০০ মানুষের জন্য নির্মাণ করা হয় দোতলা ভবন। অথচ, উদ্বোধনের আগেই দেখা দিয়েছে বড় বড় ফাটল। এতে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। বিষয়টি বার বার উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানালেও কোন প্রতিকার মিলছে না বলে জানান কলেজের অধ্যক্ষ। নতুন করে বরাদ্দের ব্যবস্থা করে পরিপূর্ণভাবে অডিটোরিয়ামটি চালুর কথা জানায় উপজেলা প্রশাসন। এদিকে ২০১৯ সালের ২৮ নভেম্বর জেলা পরিষদ থেকে জামানতও তুলে নিয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
স্থানীয় বাসিন্দা সৈদয় শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘উপজেলার পাশেই নির্মাণ করা হয়েছে অডিটোরিয়ামটি। কিন্তু ১২ বছরেও এটি চালু করা যাচ্ছে না। এটি চালু হলে বড় বড় অনুষ্ঠানও এখানে করা যেতো। প্রশাসনের নিরব ভুমিকায় দৃশ্যমান কোন অগ্রগতি নেই।’
আরেক স্থানীয় বাসিন্দা শরীফ খায়রুল আলম মুকুল বলেন, ‘অসামপ্ত অবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে এই ভবনটি পড়ে আছে। মাদকের আড্ডাখানায় পরিনত হয়েছে এলাকা। আমরা এলাকাবাসী এই ভবনটি দ্রুত চালু চাই। যাতে এলাকার মানুষের উপকার হয়।’
শিক্ষার্থী রাকিব বেপারী বলেন, ‘মূলত নেতৃত্বের অভাবেই এটির পরিচর্যা হচ্ছে না। শিল্প-সংস্কৃতির পরিবর্তণ আনতে এই অডিটোরিয়ামটি শিগগিরই চালুর দাবি জানাচ্ছি।’
ডাসার সরকারি মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জাকিয়া সুলতানা জানান, ‘ভবনটি চালু করতে বিভিন্ন মিটিং-এ আলোচনা করা হয়েছে। একাধিকবার চিঠি দেয়া হয়েছে। কিন্তু কাজের কাজ, কিছুই হচ্ছে না। আমরাও বিষয়টি নিয়ে হতাশ।’
মাদারীপুরের ডাসার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল মামুন বলেন, ‘বিষয়টি নলেজে আসার পর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। শিক্ষা অধিদফতর ও জেলা পরিষদকে বলা হয়েছে। অর্থ পাওয়া গেলে এটি চালু করা হবে।’
