জয় ই মামুন বিশেষ প্রতীনিদি মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার কৃষিপ্রধান অঞ্চল হিসেবে পরিচিত আটিগ্রাম ইউনিয়ন আজ অস্তিত্ব সংকটে। একসময়ের দিগন্তজোড়া সবুজ ফসলি জমি এখন পরিণত হয়েছে গভীর গর্ত আর ক্ষতবিক্ষত জনপদে। একদল প্রভাবশালী ভূমিখেকো ও অবৈধ মাটি ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্যে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন সাধারণ কৃষক ও স্থানীয় জনগণ। ১. বিপন্ন কৃষিজমি ও পরিবেশ আটিগ্রাম ইউনিয়নের বিভিন্ন মৌজায় দিনে-রাতে সমানতালে চলছে ফসলি জমির মাটি কাটার মহোৎসব। 'টপ সয়েল' বা উপরের উর্বর মাটি কেটে নিয়ে যাওয়ার ফলে শত শত একর জমি চাষাবাদের অনুপযুক্ত হয়ে পড়ছে। কৃষকদের অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রে পাশের জমির মাটি কেটে নেওয়ায় নিজের জমি টিকিয়ে রাখতে বাধ্য হয়ে কম দামে মাটি বিক্রি করতে হচ্ছে তাদের। ২. অবৈধ ইটভাটার বিষাক্ত গ্রাস এই মাটি কাটার মূল গন্তব্য হচ্ছে এলাকার আশেপাশের অবৈধ ইটভাটাগুলো। সরকারি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে বসতবাড়ি ও ফসলি জমির সন্নিকটে গড়ে ওঠা এই ইটভাটাগুলো গিলে খাচ্ছে ইউনিয়নের প্রাণশক্তি। পরিবেশ দূষণ: ইটভাটার কালো ধোঁয়ায় ফলদ গাছপালার ফলন কমে গেছে এবং শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। অবৈধ চুল্লি: ড্রাম চিমনি ও সনাতন পদ্ধতির ব্যবহার নিষিদ্ধ থাকলেও এখানে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে (কিংবা ম্যানেজ করে) তা চালানো হচ্ছে। ৩. ক্ষতবিক্ষত রাস্তাঘাট মাটি বহনে ব্যবহৃত ভারী ড্রাম ট্রাক ও ট্রাক্টর (পাগলা গাড়ি) চলাচলের কারণে আটিগ্রামের গ্রামীণ রাস্তাগুলো চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। এলজিইডি-র কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত পাকা রাস্তাগুলো এখন ধুলোবালি আর কাদার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। এর ফলে সাধারণ পথচারী ও শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ৪. জনজীবন ও জনরোষ স্থানীয় সাধারণ কৃষকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কৃষক জানান: "আমাদের বাপ-দাদার আমলের জমি আজ মরুভূমি হয়ে যাচ্ছে। প্রতিবাদ করলে হুমকি দেওয়া হয়। আমরা এই মাটিখেকোদের হাত থেকে মুক্তি চাই।" উপসংহার ও সুপারিশ আটিগ্রাম ইউনিয়নকে মরুভূমি হওয়া থেকে বাঁচাতে এখনই প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। অবৈধ মাটিকাটা ও ড্রেজিং বন্ধে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা। ফসলি জমির মাঝে গড়ে ওঠা অবৈধ ইটভাটাগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়া। ভারী ট্রাক চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা। যথাযথ ব্যবস্থা না নিলে অচিরেই আটিগ্রাম ইউনিয়ন তার প্রাকৃতিক ভারসাম্য হারিয়ে এক জনশূন্য ও অনুর্বর ভূমিতে পরিণত হবে।

জয় ই মামুন বিশেষ প্রতীনিদি

মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার কৃষিপ্রধান অঞ্চল হিসেবে পরিচিত আটিগ্রাম ইউনিয়ন আজ অস্তিত্ব সংকটে। একসময়ের দিগন্তজোড়া সবুজ ফসলি জমি এখন পরিণত হয়েছে গভীর গর্ত আর ক্ষতবিক্ষত জনপদে। একদল প্রভাবশালী ভূমিখেকো ও অবৈধ মাটি ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্যে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন সাধারণ কৃষক ও স্থানীয় জনগণ।

১. বিপন্ন কৃষিজমি ও পরিবেশ
আটিগ্রাম ইউনিয়নের বিভিন্ন মৌজায় দিনে-রাতে সমানতালে চলছে ফসলি জমির মাটি কাটার মহোৎসব। ‘টপ সয়েল’ বা উপরের উর্বর মাটি কেটে নিয়ে যাওয়ার ফলে শত শত একর জমি চাষাবাদের অনুপযুক্ত হয়ে পড়ছে। কৃষকদের অভিযোগ, অনেক ক্ষেত্রে পাশের জমির মাটি কেটে নেওয়ায় নিজের জমি টিকিয়ে রাখতে বাধ্য হয়ে কম দামে মাটি বিক্রি করতে হচ্ছে তাদের।

২. অবৈধ ইটভাটার বিষাক্ত গ্রাস
এই মাটি কাটার মূল গন্তব্য হচ্ছে এলাকার আশেপাশের অবৈধ ইটভাটাগুলো। সরকারি নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে বসতবাড়ি ও ফসলি জমির সন্নিকটে গড়ে ওঠা এই ইটভাটাগুলো গিলে খাচ্ছে ইউনিয়নের প্রাণশক্তি।

পরিবেশ দূষণ: ইটভাটার কালো ধোঁয়ায় ফলদ গাছপালার ফলন কমে গেছে এবং শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা।

অবৈধ চুল্লি: ড্রাম চিমনি ও সনাতন পদ্ধতির ব্যবহার নিষিদ্ধ থাকলেও এখানে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে (কিংবা ম্যানেজ করে) তা চালানো হচ্ছে।

৩. ক্ষতবিক্ষত রাস্তাঘাট
মাটি বহনে ব্যবহৃত ভারী ড্রাম ট্রাক ও ট্রাক্টর (পাগলা গাড়ি) চলাচলের কারণে আটিগ্রামের গ্রামীণ রাস্তাগুলো চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। এলজিইডি-র কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত পাকা রাস্তাগুলো এখন ধুলোবালি আর কাদার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। এর ফলে সাধারণ পথচারী ও শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

৪. জনজীবন ও জনরোষ
স্থানীয় সাধারণ কৃষকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কৃষক জানান:

“আমাদের বাপ-দাদার আমলের জমি আজ মরুভূমি হয়ে যাচ্ছে। প্রতিবাদ করলে হুমকি দেওয়া হয়। আমরা এই মাটিখেকোদের হাত থেকে মুক্তি চাই।”

উপসংহার ও সুপারিশ
আটিগ্রাম ইউনিয়নকে মরুভূমি হওয়া থেকে বাঁচাতে এখনই প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

অবৈধ মাটিকাটা ও ড্রেজিং বন্ধে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা।

ফসলি জমির মাঝে গড়ে ওঠা অবৈধ ইটভাটাগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়া।

ভারী ট্রাক চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা।

যথাযথ ব্যবস্থা না নিলে অচিরেই আটিগ্রাম ইউনিয়ন তার প্রাকৃতিক ভারসাম্য হারিয়ে এক জনশূন্য ও অনুর্বর ভূমিতে পরিণত হবে।

We use all content from others website just for demo purpose. We suggest to remove all content after building your demo website. And Dont copy our content without our permission.