নিজস্ব প্রতিবেদক,
ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে রাজধানীর বাস টার্মিনালগুলোতে যাত্রী পরিবহনে শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিস্থিতি বিরাজ করছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেছেন, গত এক সপ্তাহে কোথাও নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি নেওয়ার কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি; বরং কিছু ক্ষেত্রে যাত্রীদের কাছ থেকে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়েও কম নেওয়া হচ্ছে।
সোমবার (১৬ মার্চ) সকালে রাজধানীর মহাখালী বাস টার্মিনাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী জানান, ঈদকে সামনে রেখে যাত্রীদের নির্বিঘ্ন যাত্রা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে বিভিন্ন বাস টার্মিনালের পরিস্থিতি পরিদর্শন করা হচ্ছে। মহাখালী বাস টার্মিনালে দেখা গেছে, যাত্রীরা নিয়ম মেনে টিকিট কেটে বাসে উঠছেন এবং বাসগুলো নির্ধারিত সময় অনুযায়ী টার্মিনাল ছাড়ছে। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, বিআরটিএ এবং পরিবহন মালিক-শ্রমিক সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবকেরা সমন্বিতভাবে কাজ করছেন।
ভাড়া কম নেওয়ার প্রসঙ্গে শেখ রবিউল আলম বলেন, অনেক সময় যাত্রীসংখ্যা কম থাকলে পরিবহনগুলো নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে কমে যাত্রী নেয়। বর্তমানে কিছু ক্ষেত্রে সেই ধারা বজায় রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, কোথাও নির্ধারিত ভাড়া ৭০০ টাকা হলেও আগে ৬০০ টাকায় যাত্রী নেওয়া হতো এবং এখনো অনেক পরিবহন সেই ভাড়াতেই যাত্রী পরিবহন করছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, মঙ্গলবার সরকারি ছুটি থাকায় সোমবার বিকেল বা সন্ধ্যার দিকে যাত্রীচাপ বাড়তে পারে। সেই পরিস্থিতি সামাল দিতে পর্যাপ্ত বাস প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং টার্মিনালে বাস ঢোকা ও বের হওয়ার জন্য পর্যায়ক্রমিক ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যাতে মূল সড়কে যান চলাচলে বিঘ্ন না ঘটে।
মহাখালী বাস টার্মিনালে জায়গা সীমিত থাকায় সব বাস একসঙ্গে পার্কিং করা সম্ভব হচ্ছে না বলেও জানান তিনি। একটি বাস টার্মিনাল ছেড়ে যাওয়ার পর আরেকটি বাস প্রবেশ করছে—এভাবেই পরিচালনা করা হচ্ছে পরিবহন কার্যক্রম।
এ ছাড়া গণপরিবহনের জন্য পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে এবং তেলের দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা নেই বলেও জানান মন্ত্রী। একই সঙ্গে ফিটনেসবিহীন যানবাহন সড়কে চলাচল করতে দেওয়া হবে না বলে তিনি উল্লেখ করেন। হাইওয়ে পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো বিষয়টি নিয়মিত তদারকি করছে।
মন্ত্রী জানান, ঈদের আগে মাত্র দুই থেকে আড়াই দিনের মধ্যে প্রায় দেড় কোটি মানুষ ঢাকা ছাড়বে। এত বড় চাপ থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বিত প্রচেষ্টায় নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক ঈদযাত্রা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।
