নিজস্ব প্রতিবেদক
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সা.)-এর জীবনাদর্শ, শিক্ষা ও মানবিক মূল্যবোধ নিয়ে রাজধানীতে বিশেষ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেমিনারে দেশে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপনে বাধা দেওয়ার অভিযোগে নিন্দা জানিয়ে রাসুলপ্রেমীদের নির্বিঘ্নে এ দিবস পালনের সুযোগ নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
শনিবার (২২ আগস্ট) রাজধানীর আইডিইবি মিলনায়তনে আশেকে রাসুল জেনারেল অফিসিয়ালস অর্গানাইজেশনের (ARGOO) উদ্যোগে ‘হযরত মোহাম্মদ (সা.)-এর জীবনাদর্শ’ শীর্ষক এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মোহাম্মদী ইসলামের নেতৃত্ব প্রদানকারী ইমাম প্রফেসর ড. কুদরত এ খোদা হুজুর। বিচারপতি, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক, চিকিৎসক, সরকারি কর্মকর্তা, আইনজীবী, প্রকৌশলী, ইসলামী চিন্তাবিদসহ বিভিন্ন পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা এতে অংশ নেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইমাম প্রফেসর ড. কুদরত এ খোদা হযরত রাসুল (সা.)-এর প্রতি গভীর ভালোবাসা, তাঁর জীবনাদর্শ অনুসরণ, আত্মশুদ্ধি ও উত্তম চরিত্র গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি বলেন, মানুষের জীবনে ধর্মের শিক্ষা তখনই পূর্ণতা পায়, যখন তা মানুষের অন্তর, চরিত্র ও আচরণে প্রতিফলিত হয়। মহানবী (সা.)-এর জীবনাদর্শ অনুসরণের মধ্য দিয়ে মানুষের নৈতিক ও মানবিক চরিত্রের বিকাশ ঘটানো সম্ভব।
ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) পালনের বিষয়ে তিনি বলেন, রাসুল (সা.)-এর শুভ জন্মদিন সৃষ্টিজগতের জন্য অত্যন্ত আনন্দের দিন। এ দিনটি উদযাপনে যারা বাধা সৃষ্টি করছেন, তাদের এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে রাসুলপ্রেমীরা যাতে নির্বিঘ্নে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপন করতে পারেন, সে বিষয়ে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন।
সেমিনারে ঈদে মিলাদুন্নবী প্রচলনে সৈয়দ মাহবুব-এ-খোদা দেওয়ানবাগী হুজুরের ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন প্রফেসর কুদরত এ খোদা। তাঁর বক্তব্যে ঈদে মিলাদুন্নবীর তারিখ ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট নিয়েও আলোচনা করা হয়।
তিনি বলেন, আগে বাংলাদেশে সিরাতুন্নবী পালনের প্রচলন ছিল। পরবর্তীতে হযরত দেওয়ানবাগী (রহ.)-এর প্রচেষ্টায় বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয়ভাবে ঈদে মিলাদুন্নবী পালনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ কারণে রাসুলপ্রেমীরা তাঁর অবদান আজীবন স্মরণ করবেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সেমিনারে সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন নেদারল্যান্ডসের স্থায়ী সালিশি আদালতের সাবেক সদস্য বিচারপতি মো. আওলাদ আলী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ড. সৈয়দ মোহাম্মদ জিয়াউল করিম এবং গ্লোবাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ইমেরিটাস ড. আনিসুজ্জামান।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন নজরুল গবেষক ও বাংলাদেশ সরকারের সাবেক অতিরিক্ত সচিব মো. জাকির হোসেন, সিরাজুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের প্রিন্সিপাল ডা. দেওয়ান ফারুকুল ইসলাম, সাবেক যুগ্মসচিব মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. আহসানুল হাদী এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র অ্যাডভোকেট মো. জিয়াউর রহমানসহ বিভিন্ন পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ সরকারের সাবেক অতিরিক্ত সচিব ও আশেকে রাসুল জেনারেল অফিসিয়ালস অর্গানাইজেশনের (ARGOO) আহ্বায়ক ড. পিয়ার মোহাম্মদ।
সেমিনারে মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সা.)-এর জীবনাদর্শ অনুসরণ করে ব্যক্তি ও সমাজজীবনে নৈতিকতা, মানবিকতা, শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
